| |
| জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত |
| |
|
|
|
|
|
|
|
| |
| |
|
| |
| |
| মিয়া আবদুল হান্নান : রমজান মাস দোয়া কবুলের মাস। রমজান মাস হলো বরকত ও রহমতের মাস। আজ শুরু নাজাতের ১০ দিন। এ মাসে মহান আল্লাহ তার বান্দাদের ডাক শোনার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত থাকেন। এ মাসের প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান, তবে কিছু নির্দিষ্ট সময় রয়েছে যখন মহান আল্লাহ বান্দার দোয়া ফিরিয়ে দেন না। রমজানের শেষ দশ দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল ইতেকাফ করা অর্থাৎ সওয়াবের নিয়তে দুনিয়াবি কাজকর্ম থেকে অবসর নিয়ে কোনো মসজিদে অবস্থান করা। রমজানের শেষ দশ দিনের এই ইতেকাফ শরিয়তে সুন্নতে মুআক্কাদা কেফায়া। কোনো মহল্লা বা এলাকা থেকে একজন ইতেকাফ করলে পুরো মহল্লাবাসীর পক্ষ থেকে এটি আদায় হয়ে যাবে। কেউ ইতেকাফ না করলে সবাই গুনাহগার হবে। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল করিম (সাল্লুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজানের শেষ দশ দিন ইতেকাফ করতেন। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম) আয়েশা (রা.) বলেন, নবিজি (সাল্লুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত রমজানের শেষ দশ দিন ইতেকাফ করেছেন। এরপর তার স্ত্রীগণও (তার সুন্নত অনুসরণ করে রমজানের শেষ দশ দিন) নিজ নিজ বাড়িতে ঘরে ইতেকাফ করতেন। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম) আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজানের প্রথম দশ দিন ইতেকাফ করেছিলেন। এরপর তিনি মাঝের দশ দিন একটি তুর্কি তাবুতে ইতেকাফ করলেন, যার দরজায় একটি চাটাই ছিল। একদিন রাসুল আকরাম ( সাল্লুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চাটাইটি হাতে নিয়ে একপাশে সরিয়ে রাখলেন, তারপর মাথা বের করে লোকদের সাথে কথা বললেন। লোকেরা তার কাছে এগিয়ে গেলো। তিনি বললেন, আমি প্রথম দশ দিন ইতেকাফ করেছি এই রাত (লাইলাতুল কদর) অনুসন্ধানের জন্য। এরপর আমি মাঝের দশ দিন ইতেকাফ করেছি। তারপর আমাকে জানানো হয়েছে যে, এটি (লাইলাতুল কদর) শেষ দশকে রয়েছে। তাই আপনাদের মধ্যে যারা ইতেকাফ করতে চান, তারা যেন ইতেকাফ করেন। এরপর লোকেরা তার সাথে ইতেকাফ করল। (সহিহ মুসলিম)। পবিত্র রমজান মাস গুনাহ মাফ ও তাকওয়া অর্জনের এক বিশেষ সুযোগ। মুমিনদের জন্য এ মাসে যেমন অফুরন্ত সওয়াবের দরজা খোলা থাকে, তেমনি মহিমান্বিত এ মাসেই পবিত্র কোরআন নাযিল হয়েছে। কোরআন ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, ইসলামের প্রধান স্তম্ভ রোজা ও নামাজ আদায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। মহিমান্বিত এ মাসে বান্দা রোজা রাখার ফলে আখিরাতে তা ঢাল হয়ে কাজ করবে। রমজান মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসে ফরজ রোজার পাশাপাশি যে নফল ইবাদতটি মুসলিম উম্মাহ অত্যন্ত আগ্রহ ও গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করেন, তা হলো তারাবির নামাজ। তারাবির নামাজ রমজানের রাতগুলোকে আলোকিত করে, ইমানকে মজবুত করে, বান্দাকে আল্লাহর নৈকট্য লাভে সহায়তা করে এবং গুনাহ মাফের সহায়ক হয়। শরিয়তে তারাবির গুরুত্ব ও ফজিলত স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিস্তারিত বিবরণী উল্লেখ করা হলো। তারাবির পরিচয় ও অর্থ : ‘তারাবি’ শব্দটি আরবি ‘তারবিহা’ থেকে উদ্ভূত, এর অর্থ বিশ্রাম নেয়া। তারাবির নামাজ দীর্ঘ কেরাতের সঙ্গে আদায় করা হয় বলে প্রতি চার রাকাত পর পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়া হয়, এ কারণেই এ নামাজকে তারাবি বলা হয়। রমজান মাসে এশার নামাজের পর জামাতের সঙ্গে তারাবি আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। কোরআনে রাতের নামাজের গুরুত্ব : যদিও কোরআনে সরাসরি ‘তারাবি’ শব্দটি উল্লেখ নেই, তবে রমজান ও রাতের ইবাদতের গুরুত্ব বহু আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, হে চাদরাবৃত! তুমি রাতে দাঁড়াও, অল্প অংশ ছাড়া। (সুরা মুজ্জাম্মিল ১-২) এ আয়াত রাতের ইবাদতের গুরুত্ব তুলে ধরে। তারাবি মূলত রাতের নামাজেরই একটি বিশেষ রূপ, যা রমজান মাসে সম্মিলিতভাবে আদায় করা হয়। কোরআনের এ নির্দেশনা তারাবির ফজিলতের ভিত্তি তৈরি করে। নবী করীম (সাল্লুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বিভিন্ন হাদিস ও ইসলামের সোনালী ইতিহাস থেকে এ বিশেষ সময়গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। দৈনিক এশিয়া বাণী পত্রিকার পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো: দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্তসমূহ রমজান মাসে মূলত পাঁচটি সময় দোয়া কবুলের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী সময় হিসেবে ইসলামে নির্ধারণ করা হয়েছে। একাধিক হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, মহান আল্লাহ চাইলে যে কোন সময় তার বান্দার দোয়া কবুল করে নিতে পারেন। ইফতারের ঠিক পূর্ব মুহূর্ত সারাদিন রোজা রেখে ক্ষুধার্ত থাকার পর বান্দা যখন ইফতার সামনে নিয়ে আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষা করে, তখন আল্লাহ অত্যন্ত খুশি হন। হাদিসে বলা হয়েছে, তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না, তার মধ্যে একজন হলো রোজাদার, যখন সে ইফতার করে। (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ) শেষ রাত বা সেহরির সময় রাতের শেষ তৃতীয়াংশ দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়। এ সময়ে আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বান্দাকে ক্ষমা ও রহমত চাওয়ার আহবান জানান। সেহরির বরকতময় সময়ে মোনাজাত করলে তা সরাসরি কবুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ১০ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার সেহরির শেষ সময় : ৫-০০ মিনিট, ফজরের আজান-৫ : ৩ মিনিট, ইফতারের সময় : সন্ধ্যা ৬ টা ৭ মিনিটে মাগরিব । জুমার দিন রমজান মাসের জুমার দিনগুলো সাধারণ দিনের চেয়ে অনেক বেশি মর্যাদাবান। জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে যা চায়, আল্লাহ তাকে তাই দান করেন। লাইলাতুল কদর (কদরের রাত) ২১ রমজান বেজোড় রাত,, আজ রাত থেকে লাইলাতুলকদর তালাশ করা। ২৯ রমজান পর্যন্ত। রমজানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলো হলো কদরের রাত। পবিত্র কুরআনে এ রাতকে ‘হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’ বলা হয়েছে। এ রাতে করা দোয়া সারা জীবনের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিতে পারে। আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময় : প্রতিদিন ফরয নামাযের আযান এবং ইকামতের মাঝখানে যে সময় পাওয়া যায়, সে সময়ের দোয়া মহান আল্লাহ ফেরত দেন না। দোয়া কবুলের শর্তাবলী : একাগ্র মনে দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে যে আল্লাহ অবশ্যই দেবেন। হালাল খাবার, হারাম উপার্জন দোয়া কবুলের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। হামদ ও দরুদ, দোয়ার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও নবীজির (সা.) ওপর দরুদ পাঠ করা। তড়িঘড়ি না করা, দোয়া করলাম কিন্তু কবুল হলো না - এমন মনোভাব পোষণ করা যাবে না। রমজানে দোয়া করার মাধ্যমে একজন মুমিন কেবল দুনিয়াবী চাহিদাই পূরণ করেন না, বরং এর মাধ্যমে তার তাকওয়া (আল্লাহভীতি) বৃদ্ধি পায়। এটি বান্দা ও স্রষ্টার মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের এক অনন্য মাধ্যম। রমজানের প্রতিটি সেকেন্ডই অমূল্য। বিশেষ করে ইফতারের আগ মুহূর্তে ব্যক্তিগত মোনাজাত এবং শেষ রাতে তওবার মাধ্যমে আমরা আমাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারি। অলসতা বা গাফিলতির কারণে এ শ্রেষ্ঠ সময়গুলো যেন হাতছাড়া না হয়, সেদিকে সজাগ থাকা উচিত। ১১ মার্চ ২০২৬ বুধবার, ২১ রমজান ১৪৪৭হিজরি , নাজাতের ১০ দিনের প্রথম দিন শুরু, সেহরির শেষ সময় : ৪ টা ৫৬ মিনিট, ফজরের আজান-৪ টা ৫৮ মিনিট, ইফতারের সময় :সন্ধ্যা ৬ টা ৭ মিনিটে। হে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জৎ আপনি আমাদের ইতেকাফে বসা ও লাইলাতুলকদর পালনের জন্য তৌফিক দান করুন, আমীন।
|
| |
|
|
|